সকল ধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ৫ এপ্রিল: সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন একটি ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সভায় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, জাতীয় উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। 0

1

ধর্ম যার যার, দেশ সবার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের দেশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ধর্ম যার যার, দেশ সবার”—এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। তাঁর মতে, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানান এবং জাতীয় অগ্রযাত্রায় তাদের অবদানের প্রশংসা করেন। 2

ইস্টার সানডে উপলক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইস্টার সানডের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও একটি স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সভায় বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈসহ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 3

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দাবি ও সরকারের আশ্বাস

সভায় খ্রিষ্টান নেতারা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে খ্রিষ্টান নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান। সম্প্রতি এই দাবি ঘিরে রাজধানীতে মানববন্ধন ও সমাবেশও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন। 4

বর্তমান অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থনীতি, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাত দুর্বল অবস্থায় ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য এবং সব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। 5

জাতীয় সম্প্রীতির বার্তা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা কেবল একটি সৌজন্য সভা নয়; এটি জাতীয় সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় দেশের বহুত্ববাদী চেতনা জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।

উপসংহার

‘বেটার বাংলাদেশ’ গঠনের আহ্বানে প্রধানমন্ত্রী যে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন, তা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। উন্নয়ন, সম্প্রীতি এবং জাতীয় স্বার্থে সব ধর্মের মানুষের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

Source: Based on reporting from BSS, The Business Standard, Daily Sun and local national desk reports

Next News Previous News