চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া কোনো অন্যায় নয়’ এমন বক্তব্য দেননি হাসনাত

ফ্যাক্টচেক: ‘চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া অন্যায় নয়’—এমন মন্তব্য করেননি হাসনাত আবদুল্লাহ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্ধৃত করে একটি ফটোকার্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি বলেছেন—“চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া কোনো অন্যায় নয়।” তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর।

ফ্যাক্টচেক টিমের যাচাইয়ে জানা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। বরং একটি ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটায়ারধর্মী ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টকে আসল সংবাদ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

কোথা থেকে ছড়ালো দাবি?

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মূলধারার গণমাধ্যমের লোগোর আদলে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক পেজ থেকে এই ফটোকার্ডটি প্রথম পোস্ট করা হয়। পেজটির পরিচিতিতেই স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে—

“শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য! সমসাময়িক খবর ব্যঙ্গ-সারকাজমে উপস্থাপন। সিরিয়াস হবেন না।”

পেজটির অন্যান্য পোস্ট পর্যালোচনা করেও একই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট পাওয়া গেছে। এতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আলোচিত পোস্টটি বাস্তব সংবাদ নয়, বরং বিনোদনমূলক স্যাটায়ার হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো প্রমাণ নেই

ভাইরাল দাবির সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, সরকারি বিবৃতি বা সংসদ সদস্যের অফিসিয়াল বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে অনুসন্ধান করেও এমন কোনো মন্তব্যের তথ্য মেলেনি।

এছাড়া হাসনাত আবদুল্লাহর অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইল এবং প্রকাশ্য বিবৃতিগুলো পর্যবেক্ষণ করেও আলোচিত বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কেন এমন ভুল তথ্য ছড়ায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট বা স্যাটায়ার কনটেন্টকে অনেকে যাচাই ছাড়া সত্য সংবাদ হিসেবে শেয়ার করে ফেলেন। ফলে দ্রুত বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং জনমনে ভুল ধারণা জন্ম নিতে পারে।

বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ফটোকার্ডগুলো দ্রুত ভাইরাল হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, “চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া কোনো অন্যায় নয়”—এই বক্তব্য হাসনাত আবদুল্লাহ দিয়েছেন—এমন দাবি সত্য নয়। এটি একটি স্যাটায়ার পেজের পোস্ট থেকে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিকর তথ্য, যা পরবর্তীতে সত্য খবর হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

Source: Based on fact-check findings from Rumor Scanner and social media verification
Next News Previous News