মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বৃহত্তম দুই ইস্পাত কারখানা অচল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরানের বৃহত্তম দুই ইস্পাত কারখানা—খুজেস্তান স্টিল কোম্পানি এবং মোবারকেহ স্টিল কোম্পানি—সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কোম্পানির বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলার ফলে দেশটির শিল্প খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 1
উৎপাদন লাইন পুরোপুরি বন্ধ
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এবং অন্যান্য সূত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহান প্রদেশের মোবারকেহ স্টিল কোম্পানি জানিয়েছে যে “উচ্চমাত্রার হামলার কারণে উৎপাদন লাইন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।” একইভাবে খুজেস্তান স্টিল কোম্পানির অপারেশন বিভাগের উপপ্রধান মেহরান পাকবিন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো পুনরায় চালু করতে অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। 2
মোবারকেহ স্টিল ইরানের সবচেয়ে বড় স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ শিল্প কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক হামলায় এর একাধিক উৎপাদন ইউনিট, বিদ্যুৎ সুবিধা এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। 3
শিল্প খাতে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই কারখানা ইরানের অ-তেলভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। স্টিল রপ্তানি, নির্মাণশিল্প এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে হামলার কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ শিল্প উৎপাদন ও বৈদেশিক আয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে। 4
তেহরান-কারাজ সংযোগ সেতুতেও হামলা
একই সময়ে রাজধানী তেহরান ও কারাজ শহরের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পশ্চিম তেহরানের বিভিন্ন শিল্প ও পরিবহন এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। 5
আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি বাজার, কাঁচামাল সরবরাহ এবং বৈশ্বিক ইস্পাত মূল্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
Source: Based on reporting from AFP, Al Jazeera, Iran International and international media reports
