শিশুর সঙ্গে ভাইরাল সেই ভিডিওর জন্য নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করছি: হাসনাত আবদুল্লাহ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়ার পর কুমিল্লা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নিঃশর্তভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ভিডিওটি নির্বাচনকালীন সময়ে ধারণ করা হয়েছিল এবং সেটি মূলত একটি বন্ধ গ্রুপের জন্য ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একজন শিশুর উপস্থিতিতে বিএনপির এক সিনিয়র নেতাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি দ্রুতই অনলাইনে ভাইরাল হলে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান হাসনাত আবদুল্লাহ।

ফেসবুক পোস্টে ব্যাখ্যা ও ক্ষমা

নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে তাকে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায়। ভিডিওতে একটি শিশুর কণ্ঠও শোনা যায়, যা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ভিডিওটি নির্বাচনকালীন সময়ের একটি পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছিল এবং সেটি একটি ক্লোজড বা সীমিত গ্রুপের মধ্যে ছিল। কিন্তু পরে সেটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জন্য তিনি নিঃশর্তভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন যে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকবেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে শালীনতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য

পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-উত্তর রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে অশান্ত করার সংস্কৃতি সমর্থনযোগ্য নয়। বরং সুস্থ, সহনশীল ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চা প্রতিষ্ঠাই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

তার মতে, রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অসম্মানজনক আচরণে পরিণত না হয়—সেই বিষয়ে সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সচেতন থাকা প্রয়োজন।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওর প্রভাব

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য বা আচরণ সংবলিত ভিডিওগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে জনমনে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও আচরণের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ সীমিত পরিসরে ধারণ করা কোনো ভিডিওও অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং জনসমালোচনা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ ধরনের পরিস্থিতি রাজনৈতিক নেতাদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, তেমনি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের গুরুত্বও নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে তিনি আরও সচেতন থাকবেন।

Source: Based on reporting from Channel 24

Next News Previous News