চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। ভাষণের শুরুতেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করেন তিনি।

কোটা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান

রাষ্ট্রপতি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে একপর্যায়ে তা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন বিস্তৃত হয়।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পাশাপাশি দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদেরও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাদের ত্যাগের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতা

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।

Source: Based on reporting from নয়া দিগন্ত.

Next Post Previous Post

Advertisement