জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির নজরদারি

জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাফ নদীসহ স্থলপথে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ায় টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাট এলাকায় বিজিবির নৌ-টহল কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, অধিনায়ক, টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।

নাফ নদী ও স্থলপথে বাড়তি টহল

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় বিশেষ করে নাফ নদী ও সংলগ্ন স্থলপথে টহল জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক যানবাহন, নৌযান ও ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনও করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তেল পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সম্ভাব্য পাচারপথগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

ট্রলার ও নৌযানে অতিরিক্ত জ্বালানি বহনে সতর্কতা

বিজিবি জানিয়েছে, কিছু মাছ ধরার ট্রলার কম জ্বালানি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করে পরে স্থানীয়ভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে পাচারের চেষ্টা করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি বহন করে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়।

এসব অনিয়ম ঠেকাতে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। নৌযানগুলোকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি বহন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার জ্বালানি পাম্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারি পদক্ষেপ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে সরকার জ্বালানি তেলের মজুদ সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) যানবাহনের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সীমান্তে নজরদারি অব্যাহত থাকবে

বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকনাফ সীমান্তে নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণকেও এ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে, যাতে কেউ অবৈধ জ্বালানি পরিবহন বা পাচার কার্যক্রমে জড়িয়ে না পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সময়ে সীমান্ত এলাকায় এমন নজরদারি জোরদার করা হলে অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ করা সহজ হয় এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও সুরক্ষিত থাকে।

Source: Based on reporting from সারাবাংলা

Next Post Previous Post

Advertisement