বৈষম্যবিরোধী নেতা রিয়াদ ২ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর গুলশান এলাকায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য তিন আসামির রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহী শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। মামলার অন্য তিন আসামি হলেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক এবং সায়েম শিকদার।

আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি

এর আগে চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রিয়াদের পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসাইন এবং অন্য তিন আসামির পক্ষে আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন মামলার তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক রিয়াদকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন এবং অন্য তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তার ও রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষাপট

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরমান আলী আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য ৫ মার্চ দিন ধার্য করেন। সেই শুনানির পর রিয়াদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

মামলার অভিযোগ কী

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী নির্জন সরদার বাঁধন ও অভিযুক্তদের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির একটি কক্ষে সাক্ষাতের সময় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় অভিযুক্তদের নির্দেশে কয়েকজন নির্জনকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠ ও বুকে আঘাত পান। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যার ফলে তার নাকের ওপর গুরুতর জখম হয়।

এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঘটনার পর নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলায় নতুন তথ্য যুক্ত হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next Post Previous Post

Advertisement