মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক হলেন মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি

কোটালীপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমিটি বিতর্ক

বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি আহ্বায়ক: কোটালীপাড়া কমিটিতে বিতর্ক

বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার আসামি আবুল কালাম দাড়িয়া গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি ভেঙে উল্লেখিত মুক্তিযোদ্ধাদের মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

কমিটি গঠন ও বিতর্ক

সম্প্রতি কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়াকে আহ্বায়ক করা হয়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান লেবু, কমলেশ বেদজ্ঞ, বিষ্ণুপদ কর্মকার ও রামপ্রসাদ চক্রবর্তী মানিক হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি।

মামলার অপর আসামিরা হলেন—হেমায়েত উদ্দিন (বীর বিক্রম), ফারুকুজ্জামান সরদার, মীর দেলোয়ার হোসেন, আবুল হাসেম দাড়িয়া, মোহন সরদার, মিলন সরদার, মোজাম সরদার, কুটিমিয়া সরদার, সামচুল হক মিয়া, নজির আহমেদ, ফজর আলী, আবুল হোসেন, নোয়াবালী মিয়া, জিল্লুর মোল্লা, ফুরু মিয়া, ফরমান আলী, মোতালেব মোল্লা, আবু বক্কর, মুজিবুর রহমান, মকবুল দাড়িয়া, লিয়াকত হোসেন ও ইয়াকুব আলী (ইকুব)।

১৯৭৩ সালের ১১ মার্চ দায়েরকৃত এই হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি ফারুকুজ্জামান সরদার, ৩ নম্বর আসামি আবুল কালাম দাড়িয়া ও ৭ নম্বর আসামি মিলন সরদার জীবিত রয়েছেন। মামলার বাদি বর্তমানে কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ।

বাদির মন্তব্য

সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ বেদজ্ঞ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন। ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ কোটালীপাড়ায় জনসভা করে ফেরার পথে হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে আমার পিতা ও অন্যান্য ৩ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরেও বিচার হয়নি। একজন খুনিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে, যা লজ্জাজনক।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান শেখ বলেন, রাতের আধারে বিতর্কিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমরা চাই নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন হোক।

আবুল কালাম দাড়িয়ার বক্তব্য

আবুল কালাম দাড়িয়া বলেন, রাতের আধারে কমিটি গঠনের কথা সত্য নয়। সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৯৭৩ সালের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না, প্রকৃত আসামিরা কেউই জীবিত নেই।

জেলা কমান্ড কাউন্সিলের মন্তব্য

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক ফিরোজ খান জানান, কমিটি বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে গঠন করা হয়েছে। আহ্ব্যক কমিটির বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Next Post Previous Post

Advertisement