ইরানের আকাশে মেঘের ঘনঘটা, ঝরছে অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’

ইরানের আকাশে মেঘের ঘনঘটা, ঝরছে অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে এক অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা—আকাশ থেকে ঝরছে কালো রঙের বৃষ্টি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক স্বচ্ছ না হয়ে গাঢ় কালচে রঙ ধারণ করেছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘কালো বৃষ্টি’ আসলে সাধারণ বৃষ্টির পানির সঙ্গে ধূলিকণা, ধোঁয়া বা শিল্প দূষণের মিশ্রণের ফল। যখন বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ ধুলো বা দূষিত কণা জমা হয়, তখন বৃষ্টির পানির সঙ্গে সেগুলো মিশে এমন অস্বাভাবিক রঙ ধারণ করতে পারে।

কীভাবে তৈরি হয় কালো বৃষ্টি

আবহাওয়াবিদদের মতে, মরুভূমি অঞ্চল থেকে উড়ে আসা ধুলোর ঝড়, শিল্পকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গমন এবং কখনও কখনও আগুনের ধোঁয়াও বায়ুমণ্ডলে জমা হয়ে থাকতে পারে। পরে মেঘ থেকে বৃষ্টি হলে সেই কণাগুলো পানির সঙ্গে মিশে কালচে বা বাদামি রঙের বৃষ্টি সৃষ্টি করে।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে ধূলিঝড় একটি সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে ইরান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায়ই মরুভূমি থেকে ধুলোর মেঘ উঠে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।

বাসিন্দাদের উদ্বেগ

কালো বৃষ্টি দেখে অনেক বাসিন্দা প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ মনে করেন এটি হয়তো কোনো রাসায়নিক দূষণ বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের লক্ষণ। তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ধূলিকণা ও দূষণের কারণে হওয়া একটি স্বাভাবিক আবহাওয়াগত ঘটনা।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণ বেশি থাকলে এমন বৃষ্টি পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ বৃষ্টির পানিতে থাকা দূষিত কণা মাটি, পানি এবং উদ্ভিদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

পরিবেশবিদরা এমন পরিস্থিতিতে বৃষ্টির পানি সরাসরি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি বৃষ্টির সময় বাইরে দীর্ঘ সময় অবস্থান না করা এবং দূষণের মাত্রা বেশি হলে সতর্ক থাকার কথাও বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইরানে দেখা দেওয়া এই ‘কালো বৃষ্টি’ মূলত বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণা ও দূষণের প্রভাবে তৈরি হওয়া একটি অস্বাভাবিক কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যাযোগ্য প্রাকৃতিক ঘটনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Next News Previous News