ধাওয়া দিয়ে অস্ত্রসহ শুটারকে ধরে পুরস্কার পেলেন সেই টিআই মাহমুদ
খুলনার ডাকবাংলা মোড়ে শ্রমিক নেতা মাসুম বিল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর সন্ত্রাসী ধাওয়া দিয়ে অস্ত্রসহ ধরার জন্য ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ আলমকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) হেডকোয়ার্টার্সে বৃহস্পতিবার তাকে নগদ অর্থসহ সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেএমপি’র ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
গত বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে নগরীর ডাকবাংলা মোড়ে বাটার শো-রুমের ভেতরে ঢুকে মাসুম বিল্লাহকে (৪৭) ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল দিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। হত্যার পর পালানোর সময় পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ আলম অবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জনসাধ্যর সহযোগিতায় মূল হামলাকারী অশোক ঘোষকে (৩৮) বিদেশি পিস্তলসহ ধরে ফেলেন।
কেএমপি’র কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান পুরস্কার বিতরণের সময় বলেন, “সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য মাহমুদ আলম এই স্বীকৃতি পাচ্ছেন। তার দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপ অপরাধীকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
আটকের সময় মাহমুদের বর্ণনা
ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ আলম ঘটনার বর্ণনায় বলেন, “নগরীর ডাকবাংলা মোড় থেকে লোকজন দৌড়ে আসছিল এবং শুনেছি গুলি হয়েছে। তখন দেখলাম একজন ব্যক্তি রাস্তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, কোমরে পিস্তল গুঁজে রেখেছে। আমি তাকে ধাওয়া করি এবং স্থানীয়দের বলি, ‘এ পুলিশ, তাকে ধরুন।’ তাদের সহযোগিতায় আমি পিস্তলসহ তাকে আটক করতে সক্ষম হই। পরে আরও তিনজন সার্জেন্ট এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সন্ত্রাসীকে সম্পূর্ণভাবে আটক করা সম্ভব হয়।”
পুরস্কারের তাৎপর্য
মাহমুদ আলমের এই পদক্ষেপ পুলিশের তৎপরতা ও সাহসিকতার নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ঘটনার সময় তিনি জনসাধারণকে সঠিকভাবে সমন্বয় করতে সক্ষম হন, যা মূল অভিযুক্তকে পালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখে। কেএমপি জানিয়েছে, এই ধরনের উদাহরণ অন্য অফিসারদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে।
স্থানীয়রা জানান, পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য সন্ত্রাসীদের ধরার অভিযানে সহায়তা বৃদ্ধি পাবে।
Source: Based on reporting from Prothom Alo
