ফল ঘোষণার আগেই ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

ফল ঘোষণার আগেই ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভোটগ্রহণ চলাকালে বড় ধরনের অনিয়ম চোখে না পড়লেও ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রচারের মাঝামাঝি সময়েই ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে খুলনা মহানগরীর একটি অভিজাত হোটেলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোট প্রক্রিয়া ও ফলাফলের অস্বাভাবিকতা

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটের দিন পরিবেশ উৎসবমুখর ছিল এবং মানুষ বাধাহীনভাবে ভোট দিয়েছে। তবে ফলাফল ঘোষণার আগে যে রহস্যময় বিরতি তৈরি হলো, সেটাই বড় প্রশ্ন। রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন আসন থেকে বিরোধী জোটের প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর আসছিল। হঠাৎ করেই ফলাফল প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে কী ঘটেছে, তা সরকার বা নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, অল্প ভোটের ব্যবধানে থাকা কয়েকটি আসনে উপরের নির্দেশনায় ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আদালত ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে এবং কয়েকটি আসনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সাড়া

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। অনেক মানুষ আছেন যারা কখনও জামায়াত করেননি, এমনকি দাঁড়িপাল্লার স্লোগানও দেননি – তারাও এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন।

রাজনৈতিক অবস্থান ও লক্ষ্য

রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর যে সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন নিয়ে এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কিছু অবস্থান সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে সহযোগিতা করা হবে, তবে অন্যায় দেখলে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গাতেই প্রতিবাদ জানানো হবে।

রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তাকওয়া অর্জন ও কোরানের আদর্শ অনুসরণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়া সম্ভব। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে।

অনুষ্ঠানের অতিথি

জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম

আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, হিন্দু মহাজোটের খুলনা জেলা সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, যুগ্ম মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস এম হাবিব, সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল এবং খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কাজী শামীম আহমেদ

Next Post Previous Post

Advertisement