ঘুষ দাবির’ অভিযোগ ওঠা প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
ঘুষ দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রসিকিউটর: তদন্তের ঘোষণা চিফ প্রসিকিউটরের
মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কারাবন্দি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিনে মুক্ত করতে পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ড নিয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসিকিউটরের পদত্যাগ
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেই মো. সাইমুম রেজা তালুকদার বর্তমানে আর প্রসিকিউশন টিমে নেই। তিন দিন আগে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং সোমবার সরকার তার পদত্যাগ গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় গেলে তিনি তা মোকাবিলা করবেন।
যে মামলাকে ঘিরে অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এর বিরুদ্ধে করা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিনের বিষয়টি নিয়ে ঘুষ দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এই মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ জমা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, মামলাটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন পর্যায়ে যায়নি। এর মধ্যেই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
প্রসিকিউটরের পেশাগত পটভূমি
সাইমুম রেজা তালুকদার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি আইনজীবী সনদপ্রাপ্ত হলেও এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন বলে জানা গেছে।
আগের বিতর্কের উদাহরণ
বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমে এর আগেও বিতর্ক দেখা গেছে। অতীতে তৎকালীন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ এর বিরুদ্ধে গোপনে আসামির সঙ্গে দেখা করার অভিযোগ উঠেছিল। পরে তাকে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের পটভূমি
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার এই ট্রাইব্যুনালে পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়েও কয়েকটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
