শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন ২৩ জুন

মেঘনা–গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি বিশেষ আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৩ জুন দিন ধার্য করেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় বিচারক নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মেঘনা–গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একক উৎসভিত্তিক দরপত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা সরকারি বিধি ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

তদন্ত সংস্থার প্রাথমিক অভিযোগে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

কীভাবে দেওয়া হয়েছিল টোল আদায়ের দায়িত্ব

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে মেঘনা–গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা ছাড়াই এই চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছিল।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দিষ্ট অর্থের ভিত্তিতে নয়, বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ হিসেবে দেওয়া হয় (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত)। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এর আগের সময়ে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব যৌথভাবে এমবিইএল–এটিটি কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছিল, যার জন্য সরকারের খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।

পূর্বের চুক্তির সঙ্গে তুলনা

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিন বছরের জন্য প্রায় ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়। সেই চুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছরে হিসাব করলে ব্যয় দাঁড়ায় আনুমানিক ১১২ কোটি টাকা।

তুলনামূলকভাবে সিএনএস লিমিটেডকে দেওয়া চুক্তির আর্থিক কাঠামো অনেক বেশি ব্যয়বহুল ছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

কারা আছেন মামলার আসামি

মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আরও কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক এবং প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবেন। তখন অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

Source: Based on reporting from নয়া দিগন্ত.

Next Post Previous Post

Advertisement