নেতানিয়াহু কি বেঁচে আছেন? যা জানাল ইরানি গণমাধ্যম
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে নেতানিয়াহু নিহত—তাসনিমের দাবি, নিশ্চিত প্রমাণ নেই
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে তেহরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যমটি।
ওই পোস্টে সোমবার (৯ মার্চ) বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এ সময় তার বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর, যিনি আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
অ্যাকাউন্টের সত্যতা নিশ্চিত নয়
তবে যে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি আদৌ স্কট রিটার ব্যবহার করেন কি না—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রমাণ উপস্থাপন করেনি তাসনিম
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর হামলার কোনো সরাসরি প্রমাণ বা নিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। বরং কয়েকটি পরিস্থিতিগত বিষয় একত্র করে এই দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও ক্লিপের অনুপস্থিতি, ইসরাইলি গণমাধ্যমে তার বাসভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের খবর, জ্যারেড কুশনার ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কথিত সফর স্থগিত হওয়া এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের ফরাসি রেকর্ড, যেখানে কথোপকথনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য নেই
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন ইসরাইলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন তিনি।
আগেও এমন দাবি উঠেছিল
নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যমে এর আগেও দাবি উঠেছিল। চলমান সংঘাতের মধ্যেই গত ২ মার্চ কয়েকটি ইরানি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন।
তবে পরে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নেতানিয়াহুর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্যটি ‘নিছক গুজব’।
