বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বর-কনেসহ ১৩ জনের

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনেসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে মোংলা–খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

রামপালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বর–কনেসহ ১৩ জন নিহত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জলবায়ু, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

যেভাবে ঘটেছে দুর্ঘটনা

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাসের সঙ্গে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলসহ হাসপাতালে মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চারজন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নয়জন মারা যান। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে নৌবাহিনীর স্টাফবাসের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের পরিচয়

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, চার নাতি, কনে ও তার এক স্বজনসহ মোট ১২ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক।

হাসপাতালে মরদেহ

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে নয়জনের মরদেহ আনা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Source: জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট | ১২ মার্চ ২০২৬

Next News Previous News