সব বিষয়ে বিরোধিতা করব না, আবার না বুঝে সহযোগিতাও করব না
জাতীয় সংসদে সব বিষয়ে বিরোধিতা করা হবে না, আবার না বুঝে কোনো সিদ্ধান্তে সমর্থনও দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিলে তা সমর্থন করা হবে, তবে জনগণের ক্ষতি হয় এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে রাজপথেও প্রতিবাদ জানানো হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের সংসদীয় দলের সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ১১ দলীয় জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্বশীল বিরোধীদল হতে চায়
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধীদল হিসেবে তারা একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চান। তিনি জানান, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদ-এর ত্রয়োদশ অধিবেশনের উদ্বোধনকে সামনে রেখে বিরোধীদলীয় এমপিদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “সংসদে আমরা সব বিষয়ে বিরোধিতা করব না, আবার না বুঝে কোনো সহযোগিতাও করব না। দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেখানে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। তবে জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে আমরা আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী বিরোধিতা করব।”
প্রথমে পরামর্শ, পরে প্রতিবাদ
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সরকার কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিলে প্রথমে তা ধরিয়ে দেওয়া হবে এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংসদে আলোচনা করা হবে। এরপরও যদি সমাধান না হয়, তাহলে প্রতিবাদ করা হবে।
তিনি বলেন, “প্রতিবাদেও যদি কাজ না হয়, তাহলে জনগণের অধিকার রক্ষায় আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব। প্রয়োজন হলে সংসদের ভেতরে লড়াই করব, প্রয়োজন হলে রাজপথেও আন্দোলন করব।”
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। তবে ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন, অনেকেই আহত বা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। জুলাইয়ের চেতনাকে সম্মান করলেই সেই আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হবে।”
তিনি আরও বলেন, গণভোটে উত্থাপিত চারটি বিষয় হুবহু বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ বিষয়ে বিরোধী দল সহযোগিতা করবে।
শেষে তিনি বলেন, “বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না। সহযোগিতা করলে তা হবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে, আর বিরোধিতা করলে সেটিও হবে জনগণের অধিকারের পক্ষে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
