ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-এর বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক ও উত্তর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান লিটন তার ওপর হামলা চালান।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার অভিযোগ
জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি-এর উপস্থিতিতে বাঞ্ছারামপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে যান বাংলা টিভির বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রতিনিধি ফয়সাল আহমেদ।
অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে জগন্নাথপুর আধুনিক অডিটোরিয়াম-এর সামনে পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আতিকুর রহমান লিটন হঠাৎ সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি অতর্কিতভাবে কিল-ঘুষি দিয়ে তাকে মারধর করেন এবং এতে তিনি আহত হন।
এ সময় ভবিষ্যতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকের বক্তব্য
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আমি সংবাদ সংগ্রহের জন্য অডিটোরিয়ামে যাই। অনুষ্ঠান শেষে বাইরে পৌর বিএনপির সভাপতি সাইদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় আতিকুর রহমান লিটন পেছন থেকে এসে আমার ওপর হামলা চালান। তিনি আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আমাকে মারধর করেন।”
তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ অস্বীকার করে আতিকুর রহমান লিটন বলেন, সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এবং তার পরিবারের বিষয় নিয়ে রিপোর্টিং করার নামে বিরক্ত করছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ফয়সাল নিজেকে নতুন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এয়াছিন জানান, সাংবাদিকের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
