সংবিধান মেনেই এই পর্যন্ত এসেছি আমরা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান মেনেই এই পর্যন্ত এসেছি আমরা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার সংবিধান মেনেই এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও সংবিধান মেনেই চলার প্রত্যাশা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তন এ আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রতি আইনজীবী সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবিধান মেনে চলার অঙ্গীকার

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা সংবিধান মেনেই এই পর্যন্ত এসেছি এবং সংবিধান মেনে চলছি। সামনেও সংবিধান মেনে চলার আশা রাখি। সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।”

তিনি বলেন, সংবিধানে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো বিধান নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথকে তিনি ‘জবরদস্তিমূলক শপথ’ বলেও মন্তব্য করেন।

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বক্তব্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি শব্দ ও অক্ষরকে আমরা ধারণ করি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে সেটি বাস্তবায়ন করবো।”

তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে আগে জাতীয় সংসদে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক।

তিনি বলেন, “এই অধ্যাদেশগুলোর কোনটি সংশোধন হবে, কোনটি বাতিল হবে, আর কোনটি হুবহু অনুমোদন করা হবে—তা নির্ধারণ করার এখতিয়ার জাতীয় সংসদের।”

রাজনৈতিক মন্তব্য

এক পর্যায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কেউ যদি মনে করে তারা সরকার গঠন করতে পারত কিন্তু তাদের হারানো হয়েছে—এমন স্বপ্ন দেখারও সীমা থাকা উচিত।”

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মাঠে সবাই কথা বলবে, বিতর্ক হবে। এসব আলোচনার জন্যই সংসদ রয়েছে এবং জাতীয় সংসদের ভেতরেই সব বিতর্ক ও আলোচনা হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জয়নুল আবেদীন। এছাড়া বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং বদরুদ্দোজা বাদলসহ অন্যান্য নেতারা।

Next Post Previous Post

Advertisement