জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম দাবি করেছেন, আন্দোলনটিকে ‘অপরাধ’ হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলছে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডাকসু ভিপি, জুলাই আন্দোলন, সুরক্ষা অধ্যাদেশ, গণভোট— এসব ইস্যু ঘিরে তার বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। পোস্টে তিনি আন্দোলন-সম্পর্কিত বিভিন্ন উদ্যোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
‘ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা’
ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেছেন, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জুলাই আন্দোলনকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, “পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিংয়ে জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘৃণ্য অপচেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলন-পরবর্তী বিভিন্ন উদ্যোগ—বিশেষ করে গণভোট ও তথাকথিত ‘জুলাই সনদ’—নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রচেষ্টাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তদন্ত ও ‘প্রোপাগান্ডা’ নিয়ে অভিযোগ
ডাকসু ভিপি তার পোস্টে কথিত পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কার্যক্রম চলছে এবং কিছু গণমাধ্যমে সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ থাকার দাবি করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিলের আশঙ্কা
সাদিক কায়েম সতর্ক করে বলেন, যদি আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় বা আইনি জটিলতায় ফেলে বিপ্লবীদের হয়রানি করা হয়, তাহলে তা বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, এতে ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিক এমনকি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে পারেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান
পোস্টের শেষাংশে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনকে ঘিরে ‘অপপ্রয়াস’ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জুলাইয়ের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য সামনে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। তবে উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
সার্বিকভাবে, ডাকসু ভিপির এ বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
