দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশটিকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বইমেলার তাৎপর্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বইমেলা হলেও বাংলাদেশের বইমেলা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি ভাষা আন্দোলনের স্মারক এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, বইমেলার আকার বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বই পড়ার গুরুত্ব ও প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ
তিনি বলেন, বই পড়া শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, এটি মস্তিষ্কের জন্য ব্যায়ামের মতো কাজ করে। নিয়মিত বই পড়া স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায় এবং কিছু স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বই থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইন্টারনেট অনিবার্য হলেও এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থেকে বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের পাঠাভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ
প্রধানমন্ত্রী জানান, ১০২টি দেশের পাঠাভ্যাস নিয়ে এক জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। গড়ে একজন বাংলাদেশি বছরে প্রায় তিনটি বই পড়েন এবং এ জন্য ব্যয় করেন প্রায় ৬২ ঘণ্টা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বইমেলা মানুষকে আরও বইমুখী করে তুলবে।
আন্তর্জাতিক বইমেলার প্রস্তাব
অমর একুশে বইমেলাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্য ও বহুভাষিক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে মত দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষায় দক্ষতা অর্জনও জরুরি। জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিতে অগ্রসর হওয়ার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
সারাবছর বইমেলা আয়োজনের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশক ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলা একাডেমি তরুণদের মেধা বিকাশে গবেষণাবৃত্তি, লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।
Source: জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
