ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ডিএমপি সাবেক কমিশনার, হাবিবুর রহমান, দুদক অনুসন্ধান, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা— এসব ইস্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আইন-আদালত অঙ্গন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় তার বিদেশযাত্রা রোধ করা জরুরি ছিল।
দুদকের আবেদনে আদালতের আদেশ
আদালত সূত্র জানায়, দুদকের উপসহকারী পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, হাবিবুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া এসব অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানাধীন। দুদকের দাবি, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তিনি বিদেশে চলে গেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়
এর আগে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেন। অভিযোগ ছিল, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জন নিহতের ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে।
আইনগত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতি বা গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত চলাকালে আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্ত প্রক্রিয়ার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
প্রভাব ও তাৎপর্য
সাবেক একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধ— উভয় ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মামলায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জনআস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সার্বিকভাবে, আদালতের এ আদেশ তদন্ত প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন নজর থাকবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
