জয়নুল আবদিন ফারুকের স্ত্রীর জানাজায় মানুষের ঢল
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক-এর সহধর্মিণী কানিজ ফাতেমার জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরিবার ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অসুস্থতাজনিত কারণে রাজধানীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তিনি মারা যান।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তার প্রতি মানুষের আলাদা টান ছিল, যা জানাজার উপস্থিতিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
সেনবাগে দ্বিতীয় জানাজা
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের শিবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
এর আগে বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর নিকুঞ্জ-১ এলাকায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আত্মীয়-স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
পরিবারের বরাতে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়লে কানিজ ফাতেমাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
শোকসভায় স্মৃতিচারণ
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জয়নুল আবদিন ফারুক তার স্ত্রীকে ধর্মপ্রাণ ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সবার কাছে দোয়া চান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।
বক্তারা মরহুমার মানবিক গুণাবলি স্মরণ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। জানাজায় ইমামতি করেন তার স্বামীর চাচাতো ভাই ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মহিউদ্দিন রাব্বানী।
স্থানীয় পর্যায়ে শোকের আবহ
নোয়াখালীর সেনবাগে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের মাধ্যমে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সামাজিক সম্পর্ক অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরেও মানবিক বন্ধন তৈরি করে। কানিজ ফাতেমার জানাজায় ব্যাপক উপস্থিতি সেই সামাজিক সংযোগেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে তার মৃত্যুতে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে শোকবার্তা দেওয়া হয়েছে। শোকবার্তায় মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
