উপরওয়ালা’ এখন আমি: আমির হামজা

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘিরে অনিয়ম, স্পিড মানি ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কড়া অবস্থান নিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেছেন, “উপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, উপরওয়ালা এখন আমি। সুতরাং যা কিছু হবে আমাকে জানাবেন।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ, স্বীকারোক্তি ও সতর্কবার্তা

সংসদ সদস্য জানান, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবায় কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তার কাছে এসেছে। কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ পূর্বের ভুল স্বীকার করে পরিস্থিতির জন্য “উপরমহলকে” দায়ী করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট করেন আমির হামজা।

তার ভাষ্য, যদি কোনো অনিয়ম বা “দুই নম্বরি” হয়ে থাকে, তা সরাসরি তাকে জানাতে হবে। কেউ স্পিড মানি বা অবৈধ লেনদেনের চেষ্টা করলে তার নাম প্রকাশ করতে অনুরোধ জানান তিনি। কুষ্টিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে কেউ বেআইনি সুবিধা নিতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন।

হাসপাতাল চালু ও সেবার মান উন্নয়ন

সংসদ সদস্য বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থানীয় মানুষের আবেগ ও প্রত্যাশার জায়গা। বর্তমানে কয়েকটি বিভাগ চালু থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই প্রায় আড়াই ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরও সাত-আটটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত এখনই প্রকাশ না করে তিনি ইঙ্গিত দেন, অল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক অগ্রগতির খবর পাওয়া যেতে পারে।

প্রশাসনের সম্পৃক্ততা

সভায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শহিদুল ইসলাম বক্তব্য দেন। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট, অবকাঠামো ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো কার্যকরভাবে চালু হলে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমবে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

স্থানীয় প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জরুরি বিভাগ শক্তিশালী করা হোক। নতুন সংসদ সদস্যের সরাসরি তদারকির ঘোষণা সেই প্রত্যাশাকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে।

তবে স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, বাজেট অনুমোদন এবং জনবল নিয়োগ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। তাই ঘোষণার বাস্তবায়নই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে অনিয়ম দূর করা এবং পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত মিলেছে এই বৈঠক থেকে। এখন নজর থাকবে, ঘোষিত পদক্ষেপগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়।

Source: কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা-পরবর্তী বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদন।

Next Post Previous Post

Advertisement