নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি : ব্যারিস্টার ফুয়াদ
বরিশাল-৩ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, প্রশাসন ও অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি বলেন, ভোটের দিন বাবুগঞ্জ ও মুলাদি উপজেলায় ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা, কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জালভোটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বলে জানান তিনি।
কেন্দ্র দখল ও ব্যালট স্টাফিংয়ের অভিযোগ
ফুয়াদের অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোটারদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পেছনের গেট দিয়ে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় ধরে সিল মারার ঘটনা ঘটে। কিছু এলাকায় আধা ঘণ্টা পর্যন্ত একতরফাভাবে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা গণভোটের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি ছিল, যা ব্যালট স্টাফিংয়ের ইঙ্গিত দেয় বলে তাদের সন্দেহ। এছাড়া কিছু কেন্দ্রে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা হয়নি—কোথাও পর্দা ছিল না, কোথাও প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা
সংবাদ সম্মেলনে ফুয়াদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য, বিশেষ করে সেনাবাহিনী ও র্যাবের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তবে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাবুগঞ্জে কেন্দ্র দখল ঠেকাতে গিয়ে মুলাদির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সেখানে দ্রুত বাহিনী মোতায়েন সম্ভব হয়নি। অনেক ভোটার ভীত হয়ে কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান এবং পরে অনিয়মের ভিডিও পাঠান বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন-পরবর্তী উদ্বেগ
ফুয়াদ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বহু নেতাকর্মী এলাকায় ফিরতে পারছেন না। ঘরে ঘরে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাবুগঞ্জ-মুলাদির প্রায় ৬১ হাজার ভোটার তাকে সমর্থন দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ভোট ‘ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে’ বলে তারা মনে করছেন।
তিনি আরও বলেন, রাজপথে থেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন এবং সরকারের সমালোচনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে অতীত রাজনৈতিক ঘটনাবলির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাধারণত নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে কমিশন সূত্রে জানা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে সমান সুযোগ ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হলে জনআস্থা বাড়তে পারে।
বরিশাল অঞ্চলের ভোটারদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতা স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যকারিতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
Source: Based on reporting from স্থানীয় সংবাদদাতা, বরিশাল
