নিজেই রাস্তায় নেমেছি, অপরাধীদের ছাড় নেই: আইজিপি
দায়িত্ব নেওয়ার দুদিনেই মধ্যরাতে রাস্তায় নতুন আইজিপি
নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুইদিনের মধ্যে নিজেই রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
তিনি বলেন, “নগরবাসীর নিরাপত্তায় আমি নিজেই রাস্তায় নেমে এসেছি। অপরাধী যেই হোক তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান
আইজিপি জানান, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ ভীতির মধ্যে আছেন। তাই সন্ধ্যার পর বিশেষ ব্লক রেইড পরিচালনা করে ছিনতাইকারী ও মাদক সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১৯৮৬ সালে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় নিজেও ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ এলাকা।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা
তিনি বলেন, রাজধানীতে ফুটপাত দখলের পর এখন সড়কও দখলের শিকার, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বিপরীতে পুলিশের সদস্যসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার বলে উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকা শহরেই প্রায় ৪ কোটি মানুষের বসবাস—এ প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান আইজিপি। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগ পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান।
ঈদে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেও রাতে টহলে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।
হোয়াইট-কলার অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান আইজিপি। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে প্রচলিত আইনের মধ্যেই শক্তি প্রয়োগ করা হবে এবং পুলিশকে প্রকৃত অর্থে জনসেবক হিসেবে কাজ করতে হবে।
এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-র কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার ও তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
