মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দিনের এই সফরে প্রশাসনিক বৈঠক, উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। জেলা বিএনপি নেতাদের দাবি, মন্ত্রীর এই সফর স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন গতি আনবে।

দলীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌঁছে জুমার নামাজ আদায় করার মাধ্যমে সফর শুরু করবেন তিনি। পরদিন পর্যন্ত একাধিক সরকারি ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

উদ্বোধন, ইফতার ও প্রশাসনিক বৈঠক

জেলা বিএনপির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরের প্রথম দিন দুপুরে হাজীপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার নতুন ভবনের উদ্বোধন করবেন মন্ত্রী। সন্ধ্যায় গোবিন্দনগর এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। রাতে তিনি নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন।

শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি। সেখানে স্থানীয় সরকার কাঠামো, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

একই দিন দুপুরে রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেবেন মন্ত্রী। পরে জেলা বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করবেন। সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আরেকটি ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তার।

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি

মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো জেলায় আসায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় নেতার এই সফর জেলার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. জাহিদ বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সমন্বয় জরুরি। মন্ত্রীর উপস্থিতি সেই সমন্বয় জোরদার করবে বলে তারা আশা করছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী জানান, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন। মন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তার প্রথম জেলা সফর।

ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য কী বার্তা?

ঠাকুরগাঁও একটি কৃষিনির্ভর জেলা। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ—এই তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে জেলা বাস টার্মিনালের উদ্বোধন ও প্রশাসনিক বৈঠক স্থানীয় যোগাযোগ ও সেবা কাঠামোর উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সফরটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনায় রূপ নেবে। জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের ঘোষণা এলে তা জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই দিনের কর্মসূচি শেষে রোববার সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রীর।

Source: ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next Post Previous Post

Advertisement