সংসদে এমন মানুষ দরকার, যারা ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখবে’: ডা. শফিকুর রহমান
জাতীয় রাজনীতিতে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে এমন প্রতিনিধিদের প্রয়োজন যারা ব্যক্তিগত লাভ নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ রক্ষা করবেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ সফরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের ভূমিকা, বিরোধী দলের শক্তি এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর আমির।
“গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দল দুটোই প্রয়োজন”
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা ফেরিঘাট এলাকায় দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ থেকেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সেখানে কার্যকর সরকার ও শক্তিশালী বিরোধী দল—উভয়ই জরুরি।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি গাড়ি যেমন এক চাকা দিয়ে চলে না, তেমনি গণতন্ত্রও একক শক্তিতে কার্যকর হতে পারে না। সরকারি দল জনস্বার্থে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলে সহযোগিতা করা হবে, তবে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে বিরোধিতা করা হবে—এমন অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি।
দুর্নীতি, ঋণ খেলাপি ও বিচার সংস্কার
ঋণ খেলাপিদের নেতৃত্বে আসা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা জনগণের অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ, তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা উচিত নয়। অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি রোধ এবং শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে বিচারিক কাঠামোতে সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কারবিষয়ক গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ঘোষিত সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংলাপ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলোচনার বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষের ব্যাপার। তবে যে কোনো আলোচনা দেশের ও জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই হবে।
শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকার ও বিরোধী দল দেশ সঠিক পথে থাকলে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কিন্তু ভুল নীতি গ্রহণ করলে সমর্থন দেওয়া হবে না।
কিশোরগঞ্জ সফর ও নিহত সমর্থকদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ
এর আগে সকালে কিশোরগঞ্জে পৌঁছে তিনি নিকলী উপজেলার শিমুলবাঁক এলাকায় নিহত জামায়াত সমর্থক শাহ আলমের বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং সহায়তার আশ্বাস দেন।
পরে নিকলীর ছাতিরচর এলাকায় আরেক কর্মী আব্দুস সালামের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনি জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়। এছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনায় নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে শাহ আলমের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ও জাতীয় প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংসদের কার্যকারিতা, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং বিচার সংস্কারের প্রশ্নগুলো আবারও সামনে আসছে। স্থানীয় পর্যায়ে সফর ও নিহত কর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো দলীয় সংহতি জোরদার করার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
জাতীয় রাজনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ নির্বাচন, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সংসদীয় বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ—এমন মতও রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনস্বার্থকে কেন্দ্র করে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা ভবিষ্যৎ সংসদীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলে দেবে।
Source: Based on reporting from দেশজুড়ে
