বোর্ডে আসবেন না ইশরাক, জানালেন সাকিব-মাশরাফিকে নিয়েও

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে বোর্ডে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ক্রীড়া সংগঠক ইশরাক হোসেন। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিজে বোর্ডে আসার পরিকল্পনা নেই; বরং পূর্ণ সময় রাজনীতিতেই মনোযোগ দিতে চান। একই সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের দুই তারকা সাকিব আল হাসানমাশরাফি বিন মুর্তাজা-কে দেশের “সম্পদ” হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট ও রাজনীতি—দুই অঙ্গনেই কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে ইশরাকের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সাকিব-মাশরাফি প্রসঙ্গে বক্তব্য

ইশরাক বলেন, সাকিব ও তামিমকে তিনি প্রথমত ক্রিকেটার হিসেবেই দেখেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়। সাকিবের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, অভিযোগে যেভাবে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে, তা তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

উল্লেখ্য, জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আগেই অবসর নেওয়া মাশরাফি দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে জনসম্মুখে খুব কমই দেখা গেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সর্বশেষ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইশরাক। তার দাবি, কাউন্সিলর মনোনয়ন ও বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক প্রভাব এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কাউন্সিলর নিয়োগের বিষয়টি তিনি সমালোচনা করেন এবং এটিকে কাঠামোগত দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন করেন।

বোর্ড নয়, পূর্ণ সময় রাজনীতি

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ইশরাক বলেন, তিনি নিজেও একজন কাউন্সিলর হলেও বোর্ডে আসবেন না। তার ভাষায়, “আমার বোর্ডে আসার সময় নেই। আমি ফুলটাইম রাজনীতি করব।” তিনি মনে করেন, পূর্ণকালীন ক্রীড়া সংগঠকরাই বোর্ড পরিচালনায় এগিয়ে আসা উচিত; রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা হওয়া উচিত সহায়ক।

বিশ্লেষণ: ক্রিকেট-রাজনীতির সম্পর্ক

বাংলাদেশে ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে। জাতীয় দলের তারকারা প্রায়ই সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলে বিতর্ক কমবে এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ইশরাকের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, ক্রীড়া সংগঠন ও রাজনৈতিক প্রভাবের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। সামনে বিসিবির নীতিগত সংস্কার বা কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from ক্রীড়া প্রতিবেদক

Next Post Previous Post

Advertisement