বিশৃঙ্খলার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আহসান মনসুরের বিদায়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বুধবার কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ ও আল্টিমেটামের মধ্যে অফিস ত্যাগ করেছেন। একই দিন সরকার তাঁর নিয়োগ বাতিল করে নতুন গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে দায়িত্বে নিয়োগ দেয়। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে এই পরিবর্তন ঘটেছে।

কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ ও দাবি

সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের আয়োজনে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মকর্তারা তিনজনের শোকজ নোটিশ বাতিল, বদলি প্রত্যাহার ও অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য গভর্নরকে হুঁশিয়ারি দেন। কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ বলেন, “গভর্নর বিভিন্ন স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমাদের দাবিগুলো অবহেলিত হয়েছে, তাই প্রতীকী কলমবিরতিতে যাচ্ছি।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক শাহরিয়ার সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, “চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং উপদেষ্টাদের বাড়তি নিয়োগ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ব্যাহত করছে। গভর্নরের মন্তব্য ও নীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-মোহরদের মনোবল নষ্ট করছে।”

গভর্নরের বিদায়ের সময় ঘটনা

দুপুর ২টায় আহসান এইচ মনসুর জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। তিনি কর্মকর্তাদের বিক্ষোভকে ‘স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করে বলেন, “কিছু ব্যাংকের একীভূতকরণ ও রাষ্ট্রীয় নীতি তাদের আলোচ্য বিষয় নয়।” পদত্যাগ বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রয়োজন হলে দুই সেকেন্ডের মধ্যে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত, তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনের পরই সরকারের নতুন গভর্নর নিয়োগের খবর আসে। আহসান এইচ মনসুর তখনই অফিস ত্যাগ করেন। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিদায়ের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তার উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে বের করে দেন, এবং অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলামকে আক্রমণাত্মকভাবে আচরণ করতে দেখা যায়।

পেছনের ঘটনা ও প্রেক্ষাপট

ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স এবং কর্মকর্তাদের শোকজ ও বদলি বিষয়ে গভর্নরের নীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিবাদ তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল তিন কর্মকর্তার বদলি প্রত্যাহারসহ পুনর্বহাল দাবি জানায়। নতুন গভর্নরের নিয়োগের পর তিনজনকে পুনঃবহাল করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন বিশৃঙ্খলা আর্থিক সেক্টরে অসন্তোষ এবং অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। নতুন গভর্নরের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে ব্যাংকের নীতি ও কর্মকর্তাদের সম্পর্ক মসৃণ রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন

Next Post Previous Post

Advertisement