চীন থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কিনছে ইরান
চীন থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কিনছে ইরান: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে ইরান চীন থেকে উন্নতমানের জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক। এই সম্ভাব্য অস্ত্র চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন পরিবর্তন আনতে পারে এবং বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান কেন এমন অস্ত্র সংগ্রহ করছে?
According to Reuters, ইরান দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথের নিরাপত্তাকে নিজের প্রতিরক্ষা কৌশলের কেন্দ্রে রাখছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় দেশটি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। উন্নত ক্রুজ মিসাইল পেলে ইরানের নৌবাহিনী আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক দুই ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়াতে পারবে।
কী ধরনের মিসাইল চুক্তির আওতায় আসতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনাটি চীনের তৈরি আধুনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইলকে কেন্দ্র করে, যেগুলোর লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ক্ষমতা উচ্চমানের এবং যার পাল্লা কয়েকশ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। চীন দক্ষিণ চীন সাগরে নিজের নৌক্ষমতা বাড়াতে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, সেসবের কিছু উপাদানই ইরানের হাতে যেতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
চীন–ইরান সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে
ইরান ও চীনের ২৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এই সম্ভাব্য মিসাইল চুক্তিকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে তেহরান যেসব দেশ থেকে প্রযুক্তি ও অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারে, চীন তার মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব
আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছে। যদি ইরান উন্নত ক্রুজ মিসাইল হাতে পায়, তাহলে উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষত হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নৌ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের হাতে নতুন আক্রমণাত্মক অস্ত্র আসা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য “ক্ষতিকর”। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক উন্নয়ন শুধু উপসাগর নয়, ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনী তৎপরতা বাড়াতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন কয়েকজন সামরিক বিশ্লেষক।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স এবং তেলের আমদানি—সবকিছুই মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল। উপসাগরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তেলের দাম অস্থিতিশীল হতে পারে, যা বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তাও এ ধরনের সামরিক উত্তেজনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
উপসংহার
চীন থেকে সম্ভাব্য জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কেনার উদ্যোগ ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন দিক নির্দেশ করে। এটি শুধু তাদের নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করবে না, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে সাজাতে পারে। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও নিরাপত্তা রাজনীতিতে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
