বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের লোক বসাচ্ছে বিএনপি: এনসিপি

সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রশাসনিক পদগুলোতে নিজেদের লোক বসানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিধি-বহির্ভূত’ নিয়োগের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তার ভাষায়, “চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সময়সীমা উল্লেখ বাধ্যতামূলক হলেও বর্তমান সিদ্ধান্তগুলোতে তা স্পষ্ট নয়।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হতে পারে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়েও সমালোচনা

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। দলটির মুখপাত্র অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে অভিযানের নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা পূর্বে জানিয়েছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনা

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি জানান, ১১ দলের জোটে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত দল এককভাবে নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জোটগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং স্থানীয় সরকার কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। ক্ষমতাসীন দল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসকে প্রয়োজনীয় সংস্কার হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধী দলগুলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

Source: Based on statements made at a press conference reported by BVNEWS24

Next News Previous News