নেপালে নির্বাচন: ক্ষমতাচ্যুত অলির সঙ্গে লড়ছেন আর কারা?
নেপালের নির্বাচন: ক্ষমতাচ্যুত ওলি, তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা কারা?
নেপালে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাপ বাড়ছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী K. P. Sharma Oli আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নাম লিখিয়েছেন। তাঁর দলের শক্ত উপস্থিতি থাকলেও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে ওলির সামনে এবার লড়াই আরও কঠিন, কারণ অন্তত তিনজন প্রভাবশালী নেতা তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।
ওলির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?
নেপালের রাজনীতিতে ঐতিহ্যগতভাবে তিনটি বড় দল ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রধান ভূমিকা রাখে—নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন (মাওবাদী সেন্টার) এবং সিপিএন (ইউএমএল)। ওলি সিপিএন (ইউএমএল)-এর প্রধান নেতা হলেও অন্য দুই দলের নেতৃত্ব এবার তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলতে পারে।
১. শের বাহাদুর দেউবা – অভিজ্ঞ রাজনীতির প্রতীক
নেপালি কংগ্রেসের প্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
২. পুষ্পকমল দাহাল প্রচণ্ড – জোট রাজনীতির প্রধান চালক
সিপিএন (মাওবাদী সেন্টার)-এর নেতা পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’ নেপালের রাজনীতিতে একসময় সশস্ত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পান। পরে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এবারও তিনি জোটের শক্তির ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বড় খেলোয়াড় হতে পারেন।
৩. মাধব কুমার নেপাল – ওলির দলের ভাঙন থেকে উঠে আসা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী
সিপিএন (ইউনিফাইড সোশ্যালিস্ট)-এর নেতা মাধব কুমার নেপাল, যিনি একসময় ওলির ঘনিষ্ঠ ছিলেন, দল ভাঙনের পর এখন ওলির রাজনীতির অন্যতম সমালোচক। তাঁর দল ছোট হলেও শহুরে মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি ওলির ভোটব্যাংকে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারেন।
নির্বাচনে প্রধান ইস্যুগুলো কী?
নেপালের অর্থনীতি এখনও কোভিড-পরবর্তী ধাক্কা সামলে উঠছে। কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্নীতির অভিযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিদেশে শ্রমবাজার বিস্তার—এসব বিষয় এবার ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে।
এ ছাড়াও ভারত ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা নেপালের বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ওলি এর আগে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে দেউবা ও প্রচণ্ড ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
বাংলাদেশ ও নেপাল দক্ষিণ এশিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র। উভয় দেশের বাণিজ্য, বিদ্যুৎ আদান–প্রদান ও পর্যটন সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তাই নেপালের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। নেপালের নতুন সরকার আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে কতটা অগ্রসর করবে—তা বাংলাদেশি নীতিনির্ধারকদের জন্যও আগ্রহের বিষয়।
উপসংহার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি আবারও ক্ষমতায় ফেরার লড়াই শুরু করলেও এবার তাঁর সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জটিল। দেউবা, প্রচণ্ড ও মাধব নেপালের ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন, যা নির্বাচনী ফলকে বহু দিক থেকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে নেপালের পরবর্তী রাজনৈতিক পথচলা।
