খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলে হামলা করে খাবার লুট, আহত ২

বাগেরহাটের মোংলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় দুর্বৃত্তরা খাবার লুট ও নষ্ট করে এবং বাধা দিতে গেলে দুজন আহত হন। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

হামলার ঘটনা ও সময়

ঘটনাটি ঘটে শনিবার বিকেলে মোংলা হেলিপ্যাড মাঠে। বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মোংলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের উদ্যোগে ওই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তিনি এর আগে বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দোয়া মাহফিল শুরুর আগেই একদল দুর্বৃত্ত অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ সময় প্রায় দেড় হাজার মানুষের জন্য প্রস্তুত করা খাবার লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কিছু খাবার নষ্ট করে ফেলা হয়।

আহতদের অবস্থা

হামলায় আহত দুজন হলেন সোবাহান মোল্লা (৩০) ও মো. মাইনুল (২৫)। আহত সোবাহান মোল্লা রামপাল উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি বলে জানা গেছে। তিনি জানান, হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে মোবাইল ফোন ফেলে তিনি মোংলা থানার ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, হামলার সময় উপস্থিত অনেকেই আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজেন। কেউ কেউ মোংলা থানাসহ আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা ডেকোরেটর মালিক ও বাবুর্চিদেরও হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত সোবাহান মোল্লার অভিযোগ, দোয়া মাহফিলটি বানচাল করতেই একটি সংঘবদ্ধ দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ

খবর পেয়ে মোংলা থানা পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

মোংলা থানার সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

স্থানীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংস ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে। নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next Post Previous Post

Advertisement