দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে ওয়াজ মাহফিল শোনার দরকার নাই

সিরাজগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক: ‘দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে ওয়াজ শোনার দরকার নেই’

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ইসলামী জলসার মঞ্চ থেকে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য রাখছেন, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় বক্তব্যের ব্যবহার এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভাইরাল ভিডিও ও বক্তব্যের বিষয়বস্তু

রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এবং শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মিজানুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, যারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকবেন না, তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, কোরআন ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকতে হবে।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ইসলামী জলসার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে এই মন্তব্য করছেন এবং ভোটের পক্ষে সমর্থন চাইছেন। বক্তব্যটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বক্তব্যের সময় ও স্থান

ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, তা শুরুতে স্পষ্ট না হলেও মঞ্চে টানানো ব্যানার থেকে জানা যায়, শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর কাশিনাথপুর আব্দুল মজিদ হাফিজিয়া ও দাখিল মাদরাসার উন্নয়নকল্পে আয়োজিত একটি ইসলামী জলসায় এ বক্তব্য দেওয়া হয়। জলসাটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হলেও সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য উঠে আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বক্তব্যটিকে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে ধর্মীয় মাহফিলের মঞ্চে এ ধরনের মন্তব্যকে অনুচিত বলে সমালোচনা করছেন। মন্তব্যের ঘরে কেউ ধর্ম ও রাজনীতির সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, কেউ আবার বক্তব্যের ভাষা ও ভঙ্গি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

প্রার্থীর ব্যাখ্যা ও দুঃখ প্রকাশ

এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, বক্তব্যটি দুই মাস আগে দেওয়া এবং সেটির খণ্ডিত অংশ বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। তার দাবি, মূল বক্তব্যের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওই ইসলামী জলসায় তিনি অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং সেখানে এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না যে কাউকে বাদ দিয়ে ধর্মীয় মাহফিলের কথা বলা হবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিতর্কিত ভিডিওটি আর প্রচার না করার অনুরোধ জানান।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও বিতর্কের প্রভাব

নির্বাচনের সময় ধর্মীয় বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রচারণার সীমারেখা নিয়ে বাংলাদেশে আগেও বিতর্ক দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীর ভাবমূর্তি যেমন প্রভাবিত হতে পারে, তেমনি সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশেও উত্তাপ ছড়াতে পারে।

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এ ঘটনা ভোটারদের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি যে নির্বাচনী প্রচারণায় বাড়তি আলোচনা যোগ করেছে, তা বলছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

Source: Based on reporting from Jagonews24

Next Post Previous Post

Advertisement