মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ আগুন

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে সৃষ্ট এই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে কাজে লাগানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কীভাবে আগুনের সূত্রপাত

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে জমা থাকা বিভিন্ন পরিত্যক্ত ধাতব সামগ্রী ও দাহ্য বর্জ্যের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মহেশখালী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলা থেকে অতিরিক্ত ফায়ার সার্ভিস ইউনিট পাঠানো হয়। সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, আগুন তখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের বক্তব্য

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই একাধিক ইউনিটকে ঘটনাস্থলের দিকে পাঠানো হয়। তাঁর ভাষায়, “মহেশখালী ও চকরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।”

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিমও অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডেই আগুন লেগেছে। কী কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটিও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প স্থাপনার স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে দাহ্য পদার্থ ও ধাতব বর্জ্য একত্রে থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। এ ধরনের ঘটনায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে।

স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি প্রকল্প হওয়ায় সেখানে যেকোনো দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণ ও জাতীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি করে। তবে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল স্থাপনায় কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Source: Based on reporting from local news sources

Next Post Previous Post

Advertisement