রাউজানে যুবদল নেতাকে বাসার সামনে গুলি করে হত্যা
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক যুবদল নেতার মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত জানে আলম সিকদার (৩৫) উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য ছিলেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে নিজ বাড়ির সামনেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে করে আসা তিন যুবক খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনাস্থলেই জানে আলমের মৃত্যু হয়।
কীভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রাতের খাবারের আগে জানে আলম বাড়ির গেটসংলগ্ন উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পালসার মডেলের একটি মোটরসাইকেলে তিনজন যুবক সেখানে এসে থামে। মুহূর্তের মধ্যেই মোটরসাইকেলের পেছনে বসা একজন খুব কাছে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি করেন।
গুলিবিদ্ধ হয়ে জানে আলম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা কোনো কথা না বলে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক বক্তব্য
নিহত জানে আলম রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সদস্য ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে তেমন যুক্ত ছিলেন না।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, জানে আলমের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তাঁর স্ত্রী ও স্বজনরা জানান, হঠাৎ করে কেন তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো—তা তারা বুঝতে পারছেন না। পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন করা হোক।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা
রাউজান থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ঘটনার ধরন বিবেচনায় এটি ‘টার্গেট কিলিং’ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং সন্দেহভাজন তিনজনকে শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এলাকায় উত্তেজনা ও নিরাপত্তা জোরদার
এই হত্যাকাণ্ডের পর রাউজানের পূর্ব গুজরা ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকাশ্য স্থানে এমন হত্যাকাণ্ড এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার না করা হলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অপরাধ শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় না, বরং স্থানীয় রাজনীতিতেও উত্তেজনা বাড়ায়।
উপসংহার
রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারের হত্যাকাণ্ড স্থানীয়ভাবে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ তদন্তের অগ্রগতি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পারলে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
