খালেদা জিয়ার শোক হবে বাংলাদেশ বিনিমার্ণের শক্তি : সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে হারানোর শোককে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলাদেশ ও জাতি বিনির্মাণের শক্তিতে পরিণত করতে হবে। তাঁর মতে, এই শোক গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের রামপুর মিছবাহুল মাদরাসায় খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিএনপি আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শোককে রাজনৈতিক কর্মসূচির ঊর্ধ্বে নেওয়ার আহ্বান

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “খালেদা জিয়াকে হারানোর বেদনা আমরা শুধু নির্বাচনের হিসাব-নিকাশে ব্যবহার করব না। এই শোককে আমরা বাংলাদেশ ও এই জাতি বিনির্মাণের কাজে প্রয়োগ করব।” তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এই শোক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

তার বক্তব্যে রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি দায়িত্বশীল ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার আহ্বানও উঠে আসে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই হবে খালেদা জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগ

বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে একাধিকবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “তিনি সন্তান হারিয়েছেন, স্বামী হারিয়েছেন; কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছেন এ দেশের মানুষের ভালোবাসা। যতদিন আমরা বেঁচে থাকব, ততদিন তাঁর এই ত্যাগের মূল্যায়ন করব।”

জনগণের আস্থা ও জানাজার প্রসঙ্গ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের দোয়া খালেদা জিয়ার জীবনের বড় অর্জন। তাঁর ভাষায়, খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে—দেশের মানুষ তাঁর ওপর কতটা আস্থা ও ভরসা রাখতেন।

তিনি বলেন, “সারাবিশ্বের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জানাজার একটি তাঁর ভাগ্যে জুটেছে। এটি কোনো রাজনৈতিক আয়োজন নয়, বরং মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।”

খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে তাঁর স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ভবিষ্যতে বিএনপির কৌশল ও আন্দোলনের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

উপসংহার

কক্সবাজারে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—খালেদা জিয়ার শোককে আবেগে সীমাবদ্ধ না রেখে গণতন্ত্র ও দেশ গঠনের প্রেরণায় রূপ দেওয়ার আহ্বান। এই আহ্বান কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটিই আগামী দিনে বিএনপির রাজনীতির বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement