প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা যাচাই করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা যাচাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণীতে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীতে রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র‍্যাক)-এর নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়

দুদক চেয়ারম্যান জানান, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর সম্পদ বিবরণীতে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে দুদককে জানাতে বলা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “যেসব প্রার্থীর সম্পদে অসঙ্গতি পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ও দুদকের মধ্যে এই সমন্বয় নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে ভোটারদের মধ্যেও আস্থা তৈরি হবে যে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের আর্থিক তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে।

তদন্তের সময়সীমা ও বাস্তবতা

দুদক চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেন, দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিচালিত হয়। ফলে এখনই কাজ শুরু করলেও নির্বাচনের আগেই সব অভিযোগ বা অসঙ্গতির তদন্ত শেষ করা সম্ভব হবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে তিনি জানান, যদি কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রাথমিক প্রমাণ নিয়ে দুদকের কাছে আসে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হবে। এতে করে গুরুতর অভিযোগগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে।

নাগরিক ও সাংবাদিকদের ভূমিকার আহ্বান

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত র‍্যাক সদস্যদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব আমি বরং র‍্যাকের সদস্যদের দিচ্ছি। আপনারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন। সন্দেহ হলে এবং নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে আমাদের কাছে দিন।”

তার মতে, তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা দুদকের কাজকে আরও কার্যকর করতে পারে। এতে দুর্নীতির অভিযোগগুলো যাচাই করা সহজ হয় এবং আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

দুর্নীতিতে আপসহীন অবস্থান

এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট এবং আপসহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দুর্নীতি কোনো আপসযোগ্য বিষয় নয়।”

নতুন গেজেট বা আইনি কাঠামোতে দুর্নীতিবাজরা ছাড় পেতে পারে—এমন কোনো শঙ্কা থাকলে তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি। তবে আইনে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ রাখা হলেও দুদক তার মৌলিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে আশ্বস্ত করেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণী নিয়ে বরাবরই আলোচনা ও বিতর্ক থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হলফনামা যাচাই কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।

উপসংহার

প্রার্থীদের হলফনামা যাচাইয়ের ঘোষণা নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারলে এই প্রক্রিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আস্থার সংকট কমাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement