মনোনয়ন বাতিলে হাসনাত ও মঞ্জুরুলের পাল্টাপাল্টি আবেদন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে রাজনৈতিক ও আইনি উত্তেজনা বেড়েছে। এই আসনে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে পাল্টাপাল্টি আবেদন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা এসব আবেদনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি মাঠে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একই দিনে দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকেই পৃথকভাবে মনোনয়ন বাতিলের আবেদন জমা দেওয়া হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহ এই আসনে এনসিপির প্রার্থী এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, বিএনপির হয়ে মনোনয়ন পাওয়া মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় একটি পরিচিত নাম।

আইনি জটিলতার কেন্দ্রবিন্দুতে ঋণখেলাপি ইস্যু

এই পাল্টাপাল্টি আবেদনের পেছনে মূলত ঋণখেলাপি সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতা কাজ করছে। বৃহস্পতিবার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা চেম্বার আদালত স্থগিত করেছেন। চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এই স্থগিতাদেশ দেন।

আইনজীবীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চেম্বার আদালতের এই আদেশের ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আপাতত ঋণখেলাপি হিসেবেই বিবেচিত থাকছেন। এর অর্থ হলো, বর্তমান অবস্থায় তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারাতে পারেন।

আদালতে শুনানি ও পক্ষগুলোর অবস্থান

প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। শুনানি শেষে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ঋণসংক্রান্ত মামলার কারণে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পরে মঞ্জুরুল নিজেও স্বীকার করেন, আদালতের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

অন্যদিকে, হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া আবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংবিধান ও নির্বাচন আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপি ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। তাই আইনি অবস্থান স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল করা উচিত।

রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় সমীকরণ

কুমিল্লা-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাধারণত তীব্র হয় এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাব স্থানীয় পর্যায়েও প্রতিফলিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে যদি বিএনপির প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে যায়, তাহলে ভোটের সমীকরণ বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে। এতে নতুন বা তুলনামূলক ছোট দলগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে ঋণখেলাপি ইস্যু একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। নির্বাচন কমিশন ও আদালতের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

উপসংহার

কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পাল্টাপাল্টি আবেদন শুধু দুই প্রার্থীর ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং এটি নির্বাচনি আইন ও নৈতিকতার একটি বড় পরীক্ষা। নির্বাচন কমিশন ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এই আসনে শেষ পর্যন্ত কারা ভোটের মাঠে থাকছেন।

Source: Based on reporting from Desh TV Online

Next Post Previous Post

Advertisement