পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আবারও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তিন দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের এই ধারাবাহিক যোগাযোগ দক্ষিণ এশীয় কূটনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয় এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ওআইসি বৈঠক ঘিরে সমন্বয়
ফোনালাপে ১০ জানুয়ারি জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টারস অধিবেশন আহ্বানের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উভয় নেতা এই বৈঠককে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মুসলিম বিশ্বের চলমান রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ওআইসির এই অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—উভয় দেশই ওআইসির সক্রিয় সদস্য হওয়ায় পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি ফোনালাপে গুরুত্ব পায়।
তিন দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় যোগাযোগ
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ইসহাক দার প্রথমবারের মতো মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সে সময় তিনি চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সপ্তম কৌশলগত সংলাপে অংশ নিতে বেইজিং সফরে ছিলেন। সেখান থেকেই ঢাকায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
পরপর দুই দফা ফোনালাপকে কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর এ ধরনের ঘন ঘন যোগাযোগ দুই দেশের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারে।
সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার
সাম্প্রতিক ফোনালাপে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য, কূটনীতি এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও আলোচনা হয়।
দুই পক্ষই ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সম্মতি বাস্তব রূপ পেলে দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ
বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, শ্রমবাজার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং মুসলিম বিশ্বের যৌথ অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই এ সম্পর্কের প্রভাব রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে বহুমুখী কূটনৈতিক যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
উপসংহার
তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের ধারাবাহিক ফোনালাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঢাকা ও ইসলামাবাদ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, এই কূটনৈতিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে বাস্তব সহযোগিতা ও দৃশ্যমান উদ্যোগে কতটা রূপ নেয়।
Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন
