এনসিপিকে ১০ আসন দেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: জামায়াতের নায়েবে আমীর
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ১০টি সংসদীয় আসন ছাড় দেওয়ার খবরকে ভিত্তিহীন বলে স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এটি পুরোপুরি কল্পনাপ্রসূত।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমীরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়া আসন বণ্টনসংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে দলটির অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই বক্তব্য দেন তিনি।
আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত নয়
ডা. তাহের জানান, বর্তমানে একাধিক রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নির্বাচনি সমঝোতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মোট ১১টি দলের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। “এই পর্যায়ে নির্দিষ্ট কোনো দলকে কতটি আসন দেওয়া হচ্ছে—এ ধরনের তথ্য প্রচার করা বিভ্রান্তিকর,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার বিষয়গুলো গোপনীয়তা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে এগোচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো সংখ্যা বা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াত জোট রাজনীতিতে নিজেদের দরকষাকষির অবস্থান স্পষ্ট করল।
ক্ষমতায় গেলে সমন্বয়ের আশ্বাস
সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে সরকার পরিচালনার নীতি গ্রহণ করবে। তাঁর মতে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি জরুরি।
তিনি দাবি করেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় জামায়াত। এই বক্তব্যকে দলটির পক্ষ থেকে মধ্যপন্থী ও আলোচনাভিত্তিক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইইউ পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনের আগে একই দিনে জামায়াত আমীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি। বৈঠকটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. তাহের জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউর সক্রিয় ভূমিকা স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে। জামায়াত এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বিশ্লেষণ
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন সমঝোতা নিয়ে গুজব নতুন কিছু নয়। তবে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সরাসরি বক্তব্য জোট রাজনীতির আলোচনায় একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিকে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন দেওয়ার খবর অস্বীকার করার মাধ্যমে জামায়াত আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল।
একই সঙ্গে ইইউ পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গ তুলে ধরে দলটি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বার্তাও দিতে চাইছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, এনসিপিকে ১০ আসন দেওয়ার গুঞ্জনকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত স্পষ্ট করেছে যে, আসন বণ্টন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আসন্ন নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোট গঠনের আলোচনা ততই স্পষ্ট হবে—এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
Source: Based on reporting from Desh TV.
