আর একটু এদিক-সেদিক হলেই মারা যেতাম, তেহরানে গুলির মুখে বেঁচে ফেরা কিয়ারাশ
তেহরান — “আর একটু এদিক-সেদিক হলেই আমি বেঁচে থাকতাম না।” কাঁপা গলায় কথাগুলো বলছিলেন কিয়ারাশ, তেহরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির মুখে পড়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা এক তরুণ। তাঁর অভিজ্ঞতা ইরানে চলমান অস্থিরতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।
ঘটনাটি যেভাবে ঘটল
কিয়ারাশ জানান, তিনি একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং চারদিক থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। “আমি দৌড়াতে শুরু করি। ঠিক তখনই আমার পাশ দিয়ে একটি গুলি চলে যায়। কয়েক সেন্টিমিটার এদিক-সেদিক হলে সেটাই আমার শেষ হতো,” বলেন তিনি।
বিক্ষোভের পটভূমি
ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন শহরে এসব বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব ঘটনায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
ভয়ের মধ্যেও বেঁচে থাকার লড়াই
কিয়ারাশ বলেন, ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। “আমি এখনো রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। চোখ বন্ধ করলেই সেই গুলির শব্দ কানে বাজে,” বলেন তিনি। তবু তিনি মনে করেন, নিজের অভিজ্ঞতা বলাটা জরুরি, যাতে বিশ্ব জানতে পারে তেহরানের রাস্তায় কী ঘটছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানের বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বে প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও পড়ে। বাংলাদেশসহ বহু দেশ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, বিশেষ করে তেলের বাজার ও প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনায় রেখে।
উপসংহার
গুলির মুখে বেঁচে ফেরা কিয়ারাশের অভিজ্ঞতা শুধু একজন মানুষের গল্প নয়; এটি ইরানের চলমান সংকটের একটি জীবন্ত সাক্ষ্য। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত হলেও সাধারণ মানুষের জীবন যে গভীর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা স্পষ্ট।
