ভেনেজুয়েলা অভিযানে মোতায়েন করা রণতরি ও যুদ্ধবিমান যাচ্ছে ইরানের কাছে

ওয়াশিংটন — ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সামরিক চাপের অংশ হিসেবে আগে মোতায়েন করা মার্কিন রণতরি ও যুদ্ধবিমান এবার মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, এসব সামরিক সম্পদ ইরানসংক্রান্ত সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে নতুন করে অবস্থান বদল করা হচ্ছে।

কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরানো হচ্ছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনেজুয়েলা অভিযানে ব্যবহৃত একাধিক নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, নজরদারি বিমান এবং যুদ্ধবিমান ধাপে ধাপে ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির রণতরি ও আধুনিক ফাইটার জেট।

কেন এই সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটন তার সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিলিশিয়া এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ কীভাবে যুক্ত

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ বাড়ানোর সময় এসব রণতরি ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই অভিযান থেকে কৌশলগত গুরুত্ব কিছুটা কমে আসায় সামরিক সম্পদ অন্য উচ্চ অগ্রাধিকারপূর্ণ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পেন্টাগন।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরান আগেই সতর্ক করে বলেছে, তাদের আশপাশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হবে। তেহরান দাবি করছে, তারা আত্মরক্ষামূলক প্রস্তুতি জোরদার করবে এবং প্রয়োজনে পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সামরিক পুনর্বিন্যাস মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত অগ্রাধিকার—লাতিন আমেরিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মনোযোগ সরানোর ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

বিশ্লেষক মন্তব্য

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক শক্তি স্থানান্তর শুধু প্রতিরোধমূলক বার্তা নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তবে ভুল হিসাব থেকে সংঘাতের ঝুঁকিও থেকেই যাচ্ছে।

উপসংহার

ভেনেজুয়েলা অভিযানে ব্যবহৃত মার্কিন রণতরি ও যুদ্ধবিমান ইরানের দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলবে, নাকি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে—তা নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।

Next Post Previous Post

Advertisement