গণভোট ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেবে : আদিলুর রহমান

গণভোট, জুলাই সনদ, রাষ্ট্র পরিচালনা, ভোটার অংশগ্রহণ—গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, তার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, শিল্প ও গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় গণভোটে সক্রিয় জনসমর্থন অপরিহার্য।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গণভোট প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

জুলাই অভ্যুত্থান ও গণভোটের গুরুত্ব

আদিলুর রহমান খান বলেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ তরুণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ একটি নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে গেছে। এই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হলে জুলাই সনদের পক্ষে গণভোটে জনগণের স্পষ্ট সমর্থন প্রয়োজন। তাঁর মতে, গণভোট শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি নির্ধারণের সুযোগ।

তিনি আরও বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।” এ কারণে ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নতুন, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের সুযোগ থাকবে না।

এই লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের প্রস্তুতি

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসন মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাজমা নাহার এবং শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভোটের দিন ও পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হবে।

ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে আহ্বান

সভায় সভাপতিত্ব করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু। তিনি বলেন, গণভোটের সাফল্য নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর। এ জন্য সরকারি দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, গণভোটকে কেন্দ্র করে এ ধরনের মতবিনিময় সভা স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁদের মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য গণভোট নিশ্চিত করতে পারে।

Source: Based on reporting from Dhaka-Post

Next Post Previous Post

Advertisement