বিএনপিতে যোগ দিলেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ
বিএনপি, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, পাবনা-১—বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের বিএনপিতে অন্তর্ভুক্তিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। এর আগে মঙ্গলবার তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একজন সদস্য ছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়কে আলাদা গুরুত্ব দেয়। তিনি পাবনা-১ আসন থেকে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাকশালের প্রার্থী ছিলেন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।
বিএনপিতে যোগদানের ব্যাখ্যা
বিএনপিতে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তাঁর ভাষায়, “চারিদিকে যেভাবে উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে, তাতে একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে আমি মনে করি—এখন বিএনপি একমাত্র দল, যাকে সামনে এগিয়ে নেওয়া উচিত।” এই বিশ্বাস থেকেই তিনি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই বক্তব্য বিএনপির আদর্শিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কৌশলের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এটি বিএনপির জন্য অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ যুক্ত হওয়ার বার্তাও বহন করে।
নির্বাচন নিয়ে অবস্থান
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ জানান, তিনি পাবনা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। দল যদি বলে, তাহলে নির্বাচনে থাকবো।”
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপিতে যোগ দিলেও তাঁর নির্বাচনি ভূমিকা দলীয় কৌশলের ওপর নির্ভর করবে। আবার কেউ বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব
অধ্যাপক আবু সাইয়িদের বিএনপিতে যোগদান এমন এক সময়ে হলো, যখন দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র। তাঁর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের অন্তর্ভুক্তি বিএনপির জন্য সাংগঠনিক ও কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
আগামী দিনে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে কী ভূমিকা পালন করেন এবং নির্বাচনে তাঁর অবস্থান কী হয়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
Source: Based on reporting from Amar Desh
