সংসদে আমি কী করতে পারি তা আ.লীগের সময় আপনারা দেখেছেন
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এক ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচিত হলে নিজের চিকিৎসা শুরু করবেন এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই। স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি নিজেরাই এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতেন, তাহলে সেবার মান এমন অবস্থায় থাকত না।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামে এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। স্থানীয় সমর্থকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কঠোর সমালোচনা
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত ডাক্তার থাকেন না, বিনামূল্যের ওষুধ মেলে না, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি অচল পড়ে থাকে।” তার মতে, জনপ্রতিনিধিরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে অভ্যস্ত হওয়ায় স্থানীয় সেবাব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “আমি যদি এমপি হই, আমার চিকিৎসা শুরু হবে এই এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই। তখন সেই কেন্দ্রের সবকিছু ঠিক থাকবে। আর যদি না থাকে, সংসদে আমি কী করতে পারি, তা আওয়ামী লীগের সময় আপনারা দেখেছেন।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সংসদে তার আগের ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ব্যাখ্যা
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, এটি তার একক সিদ্ধান্ত নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে কাজ করা কর্মী-সমর্থক এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি এই এলাকায় নিয়মিত কাজ করে আসছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে তার বাবার এলাকায় কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে জোটের প্রার্থী ঘোষণার পর তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত নেন। তাদের অধিকাংশই তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গ
নির্বাচনী হুমকি-ধমকি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, কেউ যদি তার কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার জবাব তাকে দিয়েই শুরু করতে হবে। অতীতের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে তার এক কর্মীকে থানায় নেওয়া হলে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন নির্দলীয় সরকারের দায়িত্ব শুধু একটি—সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাই কর্মীদের নির্ভয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আসনটির গুরুত্ব ও প্রত্যাশা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তার মতে, এই আসনে গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর বিশেষ নজর থাকবে। ভোটে সামান্য অনিয়ম হলেও তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হবে।
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যদি তার পাশে থাকেন, তবে তিনি সরাইল ও আশুগঞ্জকে মডেল উপজেলায় রূপান্তরের জন্য কাজ করবেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ডিসেম্বরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
Source: Based on reporting from Dhaka Post.
