ভিপি নুর ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের হাতাহাতি

পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় উত্তেজনা, ভিপি নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের হাতাহাতি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পটুয়াখালী-৩ আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। গলাচিপা ও দশমিনা এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে বিএনপি জোট প্রার্থী নুরুল হক নূর (ভিপি নুর) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই ঘটনায় গুরুতর কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবু ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে দশমিনা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওই বিকেলে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের উপস্থিতিতে দশমিনা উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে একটি সাংগঠনিক তৎপরতা চলছিল। এ সময় নুরুল হক নূরের পক্ষ নেওয়া কয়েকজন বিএনপি নেতা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থক নেতাকর্মীরা নুরের সমর্থকদের উপস্থিতির বিরোধিতা করেন। এর জেরে তারা সভাস্থল ত্যাগ করলে বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

পুলিশের বক্তব্য

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিবলু খান দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করলে হাসান মামুনের সমর্থক কয়েকজন কর্মী ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও শিবলু খান বের হয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচনী রাজনীতির প্রেক্ষাপট

পটুয়াখালী-৩ আসনটি এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ভিপি নুরের অংশগ্রহণ এবং একই আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুনের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা মাঠের রাজনীতিকে জটিল করে তুলেছে। একই রাজনৈতিক ঘরানা থেকে আসা প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের ছোটখাটো সংঘর্ষ ভবিষ্যতে বড় অঘটনের ইঙ্গিতও হতে পারে, যদি না সময়মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ভোটারদের উদ্বেগ

এলাকাবাসীর একাংশ জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করছে। অনেকেই চান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা ও ভোটগ্রহণ নিশ্চিত হোক, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

উপসংহার

পটুয়াখালী-৩ আসনে সংঘটিত এই হাতাহাতির ঘটনা বড় কোনো সহিংসতায় রূপ না নিলেও এটি নির্বাচনি পরিবেশের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

Source: Based on reporting from local correspondent Kajol Baron Das, Patuakhali.

Next Post Previous Post

Advertisement