শাহজালালের মাজার জিয়ারত করলেন মির্জা ফখরুল

সিলেট—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংক্ষিপ্ত সফরে সিলেট এসে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র মাজার জিয়ারত করেছেন। রোববার বিকেলে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে সরাসরি মাজার প্রাঙ্গণে যান। সফরকালে তিনি হজরত শাহপরাণ (র.)-এর মাজার জিয়ারতেরও কর্মসূচি রেখেছেন।

সিলেটে পৌঁছানো ও মাজার জিয়ারত

দলীয় সূত্র জানায়, রোববার বিকেল ৩টার দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেটে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি সরাসরি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে যান। সেখানে আসরের নামাজ আদায় শেষে মাজার জিয়ারত করেন বিএনপি মহাসচিব।

ধর্মীয় সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ের কোনো নেতার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন সাধারণ মানুষের সঙ্গে আবেগী ও সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করে। হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার শুধু ধর্মীয় কেন্দ্রই নয়, বরং সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এমন সফর রাজনৈতিক নেতাদের জনসংযোগ কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

শাহপরাণ (র.)-এর মাজার জিয়ারতের কর্মসূচি

দলীয় সূত্রে আরও জানানো হয়, শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হজরত শাহপরাণ (র.)-এর মাজারও জিয়ারত করবেন। এই দুই আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের মাজার সিলেট অঞ্চলে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে জিয়ারতে আসেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

সফরের শেষভাগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে বিএনপি মহাসচিবের। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং চলমান জাতীয় ইস্যু নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেতাকর্মীদের উপস্থিতি

মির্জা ফখরুলের আগমনকে ঘিরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মাজার এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দলীয় সূত্র জানায়, শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান এবং সফরের প্রতিটি ধাপে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

সমাপনী মন্তব্য

সংক্ষিপ্ত হলেও এই সফর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ আরও জোরদার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এমন সফর সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে সহায়ক হতে পারে।

Source: Based on reporting from Jagonews24

Next Post Previous Post

Advertisement