পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যে কথা হলো পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা—বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফোনালাপ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। আলোচনায় বাণিজ্য, অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রোববার অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দুই নেতা বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সম্পর্ক নানা পর্যায়ে ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আলোচনায় বিশেষভাবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি উঠে আসে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং নতুন খাতে সহযোগিতার সুযোগ খোঁজার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় স্থান পায়।

কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে আলোচনা

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফোনালাপে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বার্তা দেয়।

বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় বাজার এবং একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের একটি প্রভাবশালী দেশ। ফলে অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনশক্তি বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে এমন কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সক্রিয় অবস্থান তুলে ধরছে। এতে বহুপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিও নতুন গতি পেতে পারে।

পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার

ফোনালাপের শেষাংশে মো. তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দার ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর জোর দেন তারা।

সমাপনী বিশ্লেষণ

সব মিলিয়ে এই ফোনালাপ বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তব সহযোগিতা কতটা বাড়ে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের ওপর। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সংলাপ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Source: Based on reporting from Pakistan Ministry of Foreign Affairs and local media reports

Next Post Previous Post

Advertisement