তারেক রহমান ও তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যাচ্ছেন জামায়াত আমির

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চলমান শোকের আবহে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমবেদনা জানাতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাফনের পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হবেন বলে জানিয়েছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পাঠানো এক জরুরি বার্তায় জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমান ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা প্রকাশ করবেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এই শোকবার্তা বিনিময়কে সৌজন্যমূলক ও মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

দাফনের পরদিন সমবেদনা জানাতে গুলশানে যাবেন জামায়াত আমির

খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই জামায়াত আমিরের এই সফর নির্ধারিত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই দলটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানেই তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করবেন ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াত সূত্রগুলো বলছে, এটি কোনো রাজনৈতিক আলোচনা নয়; বরং একটি শোকসভা-পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের যোগাযোগ আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগেও শোক প্রকাশ করেছে জামায়াত

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়। ওইদিন গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। একই সঙ্গে তারা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ও করেন।

পরদিন বুধবার মরহুমা খালেদা জিয়ার জানাজায়ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। এসব পদক্ষেপকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সম্মানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেছে। অতীতে জোট রাজনীতি থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দলের কৌশল ও অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। তবুও জাতীয় সংকট বা শোকের সময়ে পারস্পরিক সৌজন্য বজায় রাখার নজির মাঝেমধ্যে দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনীতির জন্যই একটি বড় ঘটনা। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমবেদনা জানানো ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সংলাপ ও সহনশীলতার বার্তা দিতে পারে।

শেষ কথা

খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর শোক ও সমবেদনার এই ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও মানবিকতা ও সৌজন্যের জায়গা এখনো বিদ্যমান। জামায়াত আমিরের গুলশান সফর সেই বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next Post Previous Post

Advertisement